প্রাচীন ভারতের ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর || Indian History MCQ Question Answers
![]() |
| গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন ভারতের ইতিহাস প্রশ্ন উত্তর |
প্রিয় বন্ধুরা,
আজ তোমাদের সাথে শেয়ার করছি প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর, যা আগত WBP, RAIL, PSC এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাথে থাকছে প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও শেষে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)।
প্রাচীন ভারতের ইতিহাস
১. হরপ্পা সভ্যতা কে আবিষ্কার করেন?
A) রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
B) দয়ারাম সাহানি
C) জন মার্শাল
D) আলেকজান্ডার কানিংহাম
সঠিক উত্তর: B) দয়ারাম সাহানি
ব্যাখ্যা: ১৯২১ সালে দয়ারাম সাহানি হরপ্পা সভ্যতা আবিষ্কার করেন। এটি সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা একটি প্রাচীন নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা ছিল।
২. 'মহেঞ্জোদারো' কথাটির অর্থ কী?
A) মৃতের স্তূপ
B) জীবিতের নগর
C) মহান নগরী
D) কালো বালা
সঠিক উত্তর: A) মৃতের স্তূপ
ব্যাখ্যা: সিন্ধি ভাষায় 'মহেঞ্জোদারো' শব্দের অর্থ হলো 'মৃতের স্তূপ'। ১৯২২ সালে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এই শহরটি আবিষ্কার করেছিলেন।
৩. আর্যদের প্রাচীনতম গ্রন্থ কোনটি?
A) সামবেদ
B) যজুর্বেদ
C) অথর্ববেদ
D) ঋগ্বেদ
সঠিক উত্তর: D) ঋগ্বেদ
ব্যাখ্যা: ঋগ্বেদ হলো আর্যদের সবচেয়ে প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ ধর্মগ্রন্থ। এতে মূলত বিভিন্ন দেব-দেবীর স্তুতিমূলক ১০২৮টি শ্লোক বা সূক্ত রয়েছে।
৪. বেদের অপর নাম কী?
A) স্মৃতি
B) শ্রুতি
C) উপনিষদ
D) আরণ্যক
সঠিক উত্তর: B) শ্রুতি
ব্যাখ্যা: প্রাচীনকালে বেদ লেখার কোনো চল ছিল না, শিষ্যরা গুরুর মুখ থেকে শুনে শুনে তা মনে রাখতো। তাই শুনে মনে রাখার কারণে বেদের অপর নাম শ্রুতি।
৫. জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থংকর কে ছিলেন?
A) পার্শ্বনাথ
B) মহাবীর
C) ঋষভনাথ
D) নেমিনাথ
সঠিক উত্তর: C) ঋষভনাথ
ব্যাখ্যা: জৈন ধর্মে মোট ২৪ জন তীর্থংকর ছিলেন, যাদের মধ্যে প্রথম ছিলেন ঋষভনাথ বা আদিনাথ। ২৪তম এবং শেষ তীর্থংকর ছিলেন বর্ধমান মহাবীর।
৬. গৌতম বুদ্ধ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
A) সারনাথ
B) লুম্বিনী
C) কুশীনগর
D) বোধগয়া
সঠিক উত্তর: B) লুম্বিনী
ব্যাখ্যা: গৌতম বুদ্ধ নেপালের তরাই অঞ্চলের লুম্বিনী উদ্যানে ৫৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাল্যকালের নাম ছিল সিদ্ধার্থ।
৭. আলেকজান্ডার কবে ভারত আক্রমণ করেন?
A) ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
B) ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
C) ৩২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
D) ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
সঠিক উত্তর: A) ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা: ম্যাসিডনের রাজা আলেকজান্ডার ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারত আক্রমণ করেন। হিদাসপিসের যুদ্ধে তিনি পুরু রাজাকে পরাজিত করেছিলেন।
৮. নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
A) ধননন্দ
B) মহাপদ্ম নন্দ
C) কালাশোক
D) বিম্বিসার
সঠিক উত্তর: B) মহাপদ্ম নন্দ
ব্যাখ্যা: মহাপদ্ম নন্দ ছিলেন নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম শক্তিশালী শাসক। তাঁকে 'সর্বক্ষত্রান্তক' বা সমস্ত ক্ষত্রিয়দের বিনাশকারী বলা হতো।
৯. মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
A) বিন্দুসার
B) অশোক
C) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
D) দশরথ
সঠিক উত্তর: C) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
ব্যাখ্যা: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য চাণক্যের (কৌটিল্য) সাহায্যে নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে ৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
১০. 'ইন্ডিকা' গ্রন্থটি কার লেখা?
A) মেগাস্থিনিস
B) ফাহিয়েন
C) হিউয়েন সাং
D) কৌটিল্য
সঠিক উত্তর: A) মেগাস্থিনিস
ব্যাখ্যা: গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় এসেছিলেন এবং তাঁর ভারত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে 'ইন্ডিকা' গ্রন্থটি রচনা করেন।
১১. অশোকের শিলালিপি কোন ভাষায় লেখা হয়েছিল?
A) সংস্কৃত
B) পালি
C) প্রাকৃত
D) খরোষ্ঠী
সঠিক উত্তর: C) প্রাকৃত
ব্যাখ্যা: সম্রাট অশোকের অধিকাংশ শিলালিপি প্রাকৃত ভাষায় এবং ব্রাহ্মী লিপিতে খোদিত হয়েছিল। জেমস প্রিন্সেপ ১৮৩৭ সালে প্রথম এর পাঠোদ্ধার করেন।
১২. কলিঙ্গ যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?
A) ২৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
B) ২৬৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
C) ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
D) ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
সঠিক উত্তর: A) ২৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
ব্যাখ্যা: সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে ২৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে কলিঙ্গ যুদ্ধ হয়েছিল। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে তিনি চণ্ডাশোক থেকে ধর্মাশোকে পরিণত হন।
১৩. গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
A) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
B) সমুদ্রগুপ্ত
C) শ্রীগুপ্ত
D) কুমারগুপ্ত
সঠিক উত্তর: C) শ্রীগুপ্ত
ব্যাখ্যা: আনুমানিক ২৪০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীগুপ্ত গুপ্ত রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এই বংশের প্রথম শক্তিশালী রাজা ছিলেন প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।
১৪. 'ভারতের নেপোলিয়ন' কাকে বলা হয়?
A) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
B) স্কন্দগুপ্ত
C) সমুদ্রগুপ্ত
D) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
সঠিক উত্তর: C) সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: সমুদ্রগুপ্তের দিগ্বিজয় এবং বিশাল সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য ঐতিহাসিক ভিনসেন্ট স্মিথ তাঁকে 'ভারতের নেপোলিয়ন' আখ্যা দিয়েছেন।
১৫. ইলাহাবাদ প্রশস্তি কে রচনা করেন?
A) কলহন
B) হরিসেন
C) বাণভট্ট
D) রবিকীর্তি
সঠিক উত্তর: B) হরিসেন
ব্যাখ্যা: হরিসেন ছিলেন সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি। তিনি সংস্কৃত ভাষায় ইলাহাবাদ প্রশস্তি রচনা করেন, যা থেকে সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যজয় সম্পর্কে জানা যায়।
১৬. ফাহিয়েন কার রাজত্বকালে ভারতে আসেন?
A) হর্ষবর্ধন
B) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
C) সমুদ্রগুপ্ত
D) প্রথম কুমারগুপ্ত
সঠিক উত্তর: B) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা: চীনা পরিব্রাজক ফাহিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের (বিক্রমাদিত্য) রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ সংগ্রহ করার জন্য।
১৭. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন?
A) প্রথম কুমারগুপ্ত
B) ধর্মপাল
C) স্কন্দগুপ্ত
D) গোপাল
সঠিক উত্তর: A) প্রথম কুমারগুপ্ত
ব্যাখ্যা: গুপ্ত সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্ত বিহারে বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল।
১৮. হর্ষচরিত কার লেখা?
A) হর্ষবর্ধন
B) বাণভট্ট
C) কালিদাস
D) কলহন
সঠিক উত্তর: B) বাণভট্ট
ব্যাখ্যা: হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট 'হর্ষচরিত' রচনা করেন। এই গ্রন্থ থেকে রাজা হর্ষবর্ধনের জীবন ও রাজত্বকাল সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়।
১৯. হিউয়েন সাং কার আমলে ভারতে এসেছিলেন?
A) দ্বিতীয় পুলকেশী
B) হর্ষবর্ধন
C) শশাঙ্ক
D) ধর্মপাল
সঠিক উত্তর: B) হর্ষবর্ধন
ব্যাখ্যা: চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং রাজা হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ভারতে এসেছিলেন। তাঁর লেখা ভ্রমণবৃত্তান্তের নাম হলো 'সি-ইউ-কি'。
২০. পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
A) দেবপাল
B) ধর্মপাল
C) গোপাল
D) রামপাল
সঠিক উত্তর: C) গোপাল
ব্যাখ্যা: অষ্টম শতাব্দীতে বাংলার অরাজকতার (মাৎস্যন্যায়) অবসান ঘটিয়ে গোপাল পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলার প্রথম নির্বাচিত রাজা ছিলেন।
২১. বিক্রমশীলা মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেন?
A) গোপাল
B) ধর্মপাল
C) দেবপাল
D) বল্লাল সেন
সঠিক উত্তর: B) ধর্মপাল
ব্যাখ্যা: পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল বিহারের ভাগলপুরে বিক্রমশীলা মহাবিহার স্থাপন করেন, যা বৌদ্ধ ধর্ম ও শিক্ষার একটি বড় কেন্দ্র ছিল।
২২. সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
A) সামন্ত সেন
B) বিজয় সেন
C) বল্লাল সেন
D) লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর: A) সামন্ত সেন
ব্যাখ্যা: একাদশ শতাব্দীতে বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠা করেন সামন্ত সেন। তবে এই বংশের প্রথম স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজা ছিলেন বিজয় সেন।
২৩. 'গীতগোবিন্দম' কে রচনা করেন?
A) ধোয়ী
B) জয়দেব
C) উমাপতি ধর
D) হলায়ুধ
সঠিক উত্তর: B) জয়দেব
ব্যাখ্যা: লক্ষণ সেনের অন্যতম সভাকবি জয়দেব রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে সংস্কৃত ভাষায় বিখ্যাত কাব্য 'গীতগোবিন্দম' রচনা করেছিলেন।
২৪. ত্রিপিটক কোন ভাষায় রচিত?
A) সংস্কৃত
B) প্রাকৃত
C) পালি
D) ব্রাহ্মী
সঠিক উত্তর: C) পালি
ব্যাখ্যা: বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক (বিনয়, সুত্ত ও অভিধম্ম পিটক) পালি ভাষায় রচিত হয়েছিল যাতে সাধারণ মানুষ তা সহজে বুঝতে পারে।
২৫. শকাব্দের প্রচলন কে করেন?
A) কণিষ্ক
B) রুদ্রদমন
C) বিম কদফিসেস
D) অশোক
সঠিক উত্তর: A) কণিষ্ক
ব্যাখ্যা: কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক ৭৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং এই বছর থেকেই তিনি শকাব্দের (Saka Era) প্রচলন শুরু করেন।
২৬. চরক কে ছিলেন?
A) একজন গণিতজ্ঞ
B) একজন চিকিৎসক
C) একজন জ্যোতির্বিদ
D) একজন স্থপতি
সঠিক উত্তর: B) একজন চিকিৎসক
ব্যাখ্যা: চরক ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত চিকিৎসক এবং কণিষ্কের রাজবৈদ্য। তাঁর লেখা বিখ্যাত চিকিৎসা গ্রন্থ হলো 'চরক সংহিতা'。
২৭. গুপ্ত যুগের শ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতজ্ঞ কে ছিলেন?
A) আর্যভট্ট
B) বরাহমিহির
C) ব্রহ্মগুপ্ত
D) ভাস্করাচার্য
সঠিক উত্তর: A) আর্যভট্ট
ব্যাখ্যা: আর্যভট্ট ছিলেন গুপ্ত যুগের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী যিনি প্রমাণ করেছিলেন যে পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর ঘোরে। তাঁর লেখা গ্রন্থ হলো 'আর্যভট্টীয়'。
২৮. কৈলাসনাথ মন্দির কে নির্মাণ করেন?
A) প্রথম কৃষ্ণ
B) দন্তিদুর্গ
C) প্রথম রাজেন্দ্র চোল
D) প্রথম পরান্তক
সঠিক উত্তর: A) প্রথম কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা: রাষ্ট্রকূট রাজা প্রথম কৃষ্ণ ইলোরায় পাথর কেটে বিখ্যাত কৈলাসনাথ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি ভারতীয় স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।
২৯. চোল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?
A) বিজয়ালয়
B) প্রথম রাজরাজ
C) প্রথম রাজেন্দ্র চোল
D) রাজাধিরাজ
সঠিক উত্তর: C) প্রথম রাজেন্দ্র চোল
ব্যাখ্যা: প্রথম রাজেন্দ্র চোল ছিলেন চোল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা। তিনি গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চল জয় করে 'গঙ্গাইকোণ্ডচোল' উপাধি ধারণ করেছিলেন।
৩০. রাজতরঙ্গিণী কার লেখা?
A) কলহন
B) বিলহন
C) কালিদাস
D) সোমদেব
সঠিক উত্তর: A) কলহন
ব্যাখ্যা: দ্বাদশ শতাব্দীতে কাশ্মীরি কবি কলহন 'রাজতরঙ্গিণী' রচনা করেন। এটি থেকে প্রাচীন কাশ্মীরের ধারাবাহিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়।
৩১. আইহোল প্রশস্তি থেকে কার কথা জানা যায়?
A) সমুদ্রগুপ্ত
B) দ্বিতীয় পুলকেশী
C) হর্ষবর্ধন
D) শশাঙ্ক
সঠিক উত্তর: B) দ্বিতীয় পুলকেশী
ব্যাখ্যা: চালুক্য রাজা দ্বিতীয় পুলকেশীর সভাকবি রবিকীর্তি আইহোল প্রশস্তি রচনা করেন, যা থেকে পুলকেশীর যুদ্ধজয় ও কৃতিত্বের কথা জানা যায়।
৩২. পল্লব বংশের রাজধানী কোথায় ছিল?
A) তাঞ্জোর
B) মাদুরাই
C) কাঞ্চীপুরম
D) বাতাপি
সঠিক উত্তর: C) কাঞ্চীপুরম
ব্যাখ্যা: দক্ষিণ ভারতের একটি শক্তিশালী রাজবংশ ছিল পল্লব বংশ। তাদের রাজধানী ছিল কাঞ্চীপুরম, যা মন্দির স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত ছিল।
৩৩. মহাবলীপুরমের রথ মন্দিরগুলো কারা তৈরি করেছিলেন?
A) চোলরা
B) চালুক্যরা
C) পল্লবরা
D) রাষ্ট্রকূটরা
সঠিক উত্তর: C) পল্লবরা
ব্যাখ্যা: পল্লব রাজা প্রথম নরসিংহবর্মনের আমলে মহাবলীপুরমে পাথর কেটে বিখ্যাত রথ মন্দির (সপ্তপ্যাগোডা) নির্মাণ করা হয়েছিল।
৩৪. গৌতমীপুত্ৰ সাতকর্ণী কোন বংশের রাজা ছিলেন?
A) সাতবাহন
B) চোল
C) চের
D) পাণ্ড্য
সঠিক উত্তর: A) সাতবাহন
ব্যাখ্যা: গৌতমীপুত্ৰ সাতকর্ণী ছিলেন দাক্ষিণাত্যের সাতবাহন বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা। নাসিক প্রশস্তি থেকে তাঁর শাসনকাল সম্পর্কে জানা যায়।
৩৫. বৃহৎ স্নানাগার কোথায় আবিষ্কৃত হয়েছে?
A) হরপ্পা
B) লোথাল
C) কালিবঙ্গান
D) মহেঞ্জোদারো
সঠিক উত্তর: D) মহেঞ্জোদারো
ব্যাখ্যা: সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদারোতে একটি বিশাল স্নানাগার পাওয়া গেছে। মনে করা হয় এটি কোনো বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় ব্যবহৃত হতো।
৩৬. কোন প্রাচীন ভারতীয় রাজাকে 'অমিত্রাঘাত' বলা হতো?
A) বিম্বিসার
B) বিন্দুসার
C) অশোক
D) অজাতশত্রু
সঠিক উত্তর: B) বিন্দুসার
ব্যাখ্যা: মৌর্য সম্রাট বিন্দুসারকে গ্রিকরা 'অমিত্রোচেটেস' বা অমিত্রাঘাত (শত্রু বিনাশকারী) বলতো। তিনি চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পুত্র ছিলেন।
৩৭. শুঙ্গ বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
A) পুষ্যমিত্র শুঙ্গ
B) অগ্নিমিত্র
C) বসুমিত্র
D) দেবভূতি
সঠিক উত্তর: A) পুষ্যমিত্র শুঙ্গ
ব্যাখ্যা: শেষ মৌর্য সম্রাট বৃহদ্রথকে হত্যা করে তাঁর সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ ১৮৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মগধে শুঙ্গ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
৩৮. 'মুদ্রারাক্ষস' নাটকটির রচয়িতা কে?
A) বিশাখদত্ত
B) কালিদাস
C) ভবভূতি
D) শূদ্রক
সঠিক উত্তর: A) বিশাখদত্ত
ব্যাখ্যা: গুপ্ত যুগে বিশাখদত্ত রচিত 'মুদ্রারাক্ষস' নাটক থেকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এবং চাণক্য কীভাবে নন্দ বংশের পতন ঘটিয়েছিলেন তা জানা যায়।
৩৯. লোথাল কেন বিখ্যাত?
A) বৌদ্ধ স্তূপের জন্য
B) সিন্ধু সভ্যতার বন্দর শহর হিসেবে
C) প্রাচীন মুদ্রার জন্য
D) গুহাচিত্রের জন্য
সঠিক উত্তর: B) সিন্ধু সভ্যতার বন্দর শহর হিসেবে
ব্যাখ্যা: গুজরাটে অবস্থিত লোথাল ছিল সিন্ধু সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর। এখানে একটি কৃত্রিম পোতাশ্রয়ের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
৪০. অজাতশত্রু কোন বংশের রাজা ছিলেন?
A) হর্যঙ্ক
B) শিশুনাগ
C) নন্দ
D) মৌর্য
সঠিক উত্তর: A) হর্যঙ্ক বংশ
ব্যাখ্যা: অজাতশত্রু ছিলেন মগধের হর্যঙ্ক বংশের রাজা। তিনি তাঁর পিতা বিম্বিসারকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেছিলেন এবং পাটলিপুত্র নগরীর পত্তন করেছিলেন।
১. প্রাচীন ভারতের ইতিহাস জানার প্রধান উৎসগুলো কী কী?
উত্তর: প্রাচীন ভারতের ইতিহাস মূলত সাহিত্যিক উপাদান (যেমন- বেদ, পুরাণ, বৌদ্ধ ও জৈন গ্রন্থ), প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান (শিলালিপি, মুদ্রা, স্মৃতিসৌধ) এবং বিদেশি পর্যটকদের বিবরণী থেকে জানা যায়।
২. সিন্ধু সভ্যতাকে কেন হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়?
উত্তর: ১৯২১ সালে সিন্ধু সভ্যতার প্রথম নিদর্শন হরপ্পা নামক স্থানে আবিষ্কৃত হয়েছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী একে হরপ্পা সভ্যতাও বলা হয়।
৩. আর্যরা প্রথম ভারতের কোথায় বসতি স্থাপন করেছিল?
উত্তর: আর্যরা প্রথম উত্তর-পশ্চিম ভারতের সপ্তসিন্ধু অঞ্চলে (পাঞ্জাব ও তার সংলগ্ন এলাকা) তাদের বসতি স্থাপন করেছিল।
৪. প্রাচীন ভারতে ষোড়শ মহাজনপদ কী?
উত্তর: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে উত্তর ভারতে ১৬টি বড় রাজ্যের উত্থান ঘটেছিল, যাদের একত্রে ষোড়শ মহাজনপদ বলা হতো। এর মধ্যে মগধ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
৫. বৌদ্ধ ধর্ম এবং জৈন ধর্মের মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: দুটি ধর্মই অহিংসার কথা বললেও, জৈন ধর্ম অনেক বেশি কঠোর তপস্যা ও আত্মক্লেশের ওপর জোর দেয়, অন্যদিকে বৌদ্ধ ধর্ম মধ্যম পন্থায় বিশ্বাসী।
৬. মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণ কী ছিল?
উত্তর: অশোকের পরবর্তী দুর্বল উত্তরাধিকারী, বিশাল সাম্রাজ্য পরিচালনায় অক্ষমতা এবং প্রাদেশিক শাসকদের বিদ্রোহ মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের মূল কারণ ছিল।
৭. গুপ্ত যুগকে প্রাচীন ভারতের 'সুবর্ণ যুগ' বলা হয় কেন?
উত্তর: গুপ্ত যুগে সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং ভাস্কর্যের অভাবনীয় উন্নতি হয়েছিল, তাই এই সময়কালকে প্রাচীন ভারতের সুবর্ণ যুগ বলা হয়।
৮. দক্ষিণ ভারতের ইতিহাসে চোলদের প্রধান অবদান কী?
উত্তর: শক্তিশালী নৌবাহিনী গঠন, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা (গ্রাম পঞ্চায়েত) এবং দ্রাবিড় রীতির চমৎকার মন্দির স্থাপত্য চোলদের প্রধান অবদান।
৯. প্রাচীন ভারতের কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল?
উত্তর: প্রাচীন ভারতে তক্ষশীলা, নালন্দা এবং বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল, যেখানে বিদেশ থেকেও ছাত্ররা আসতো।
১০. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রাচীন ভারতের কোন অংশটি বেশি পড়া উচিত?
উত্তর: সিন্ধু সভ্যতা, বৈদিক যুগ, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম, মৌর্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্য এবং দক্ষিণ ভারতের রাজবংশগুলো থেকে পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।

Social Plugin